তিতুমীর কলেজ কে বানাতে হবে বিশ্ববিদ্যালয় এমন দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরা। এই দাবি নিয়ে ২০২৪ সালে ১৮ই নভেম্বর রাজধানী মহাখালীতে রেললাইন অবরোধ করে বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা। এতে করে ঢাকার সঙ্গে সারাদেশের অধিকাংশ রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। যোগাযোগে ভোগান্তির পাশাপাশি আন্দোলনের ফলে সাধারণ মানুষও আক্রান্ত হয়। সম্প্রতি নেট দুনিয়ায় ভাইরাল হয়েছে একটি ভিডিও। যেখানে দেখা যায়, অবরোধের সময় সড়ক এবং রেল পরিবহন আটকে রাখে এসব আন্দোলনকারীরা। একপর্যায়ে তারা যাত্রীবাহী একটি ট্রেনে লাগাতার ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে। তখন আহত হন অনেক নিরীহ মানুষ। ভিডিওটিতে দেখা যায় এসব শিক্ষার্থীরা রেললাইনের উপর দাঁড়িয়ে ট্রেন থামানোর জন্য চেষ্টা চালায়। তবে চালক যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে ট্রেন চালিয়ে যান।তবে ট্রেনে শিক্ষার্থীরা ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে হতাহত হন ছোট ছোট বাচ্চা, পুরুষ এবং মহিলা।
কিছু শিক্ষার্থীদের এমন কর্মকাণ্ডে পুরো তিতুমীর কলেজকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রল এবং হাঁস্যরস চলছে। এতেও ক্ষান্ত হননি শিক্ষার্থীরা। তারা নতুন করে কর্মসূচি দিয়েছে এবং অনির্দিষ্টকালের জন্য কলেজ নো কলেজ ক্লোজ ডাউন ঘোষণা করেছেন। বর্তমানে তিতুমীর কলেজে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত। কিন্তু তাতে নানা সংকট দেখা দেওয়ায় ক্ষোভ -বিক্ষোভ চলছিল কদিন ধরে। সেই সমস্যার সমাধান হিসেবেই শিক্ষার্থীরা স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কথা বলছে। শুধু তিতুমীর নয় ঢাকার সরকারি আরও ছয়টি কলেজও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত। ২০১৭ সালে এগুলোকে ঢাবির অধিভুক্ত করা হয়। ২০২৪ সালের গত আগস্ট এর পট পরিবর্তনের পর তিতুমীর কলেজ চায় বিশ্ববিদ্যালয় হতে। এই দাবি থেকেই শিক্ষার্থীদের রাস্তায় নামা।
আর এখান থেকেই সাধারণ মানুষের ভোগান্তি। শিক্ষার্থীদের কর্মকান্ডে সমালোচনা হলেও এই কলেজের ইতিহাস দীর্ঘ দিনের। স্বাধীনতার আগে ১৯৬৮ সালের ৭ মে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল স্বনামধন্য এই বিদ্যাপীঠের। সে সময় কলেজটি জিন্নাহ কলেজ নামে পরিচিত ছিল। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর মনোনয়ন খান জগন্নাথ কলেজের ছাত্র আন্দোলনকে নির্মূল করার জন্য মহাখালীতে অবস্থিত ডিআইটি খাদ্যগুদাম হিসেবে পরিচিত ভবনে জগন্নাথ কলেজের ডিগ্রী শাখা স্থানান্তর করেন। এর নামকরণ করা হয় জিন্নাহ কলেজ। পড়ে ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হলে কলেজটির নাম পরিবর্তন করে উপমহাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রথম শহীদ বীর নেছার আলি তিতুমীরের নামে নামকরণ করা হয়।
১১ একরের সুবিস্তীর্ণ জায়গায় হাজারো শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত এই প্রতিষ্ঠান ঢাকার মহাখালী এলাকায় অবস্থিত। জ্ঞানী শক্তি নীতিবাক্য ধারণ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বিভিন্ন বিষয় স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর শ্রেণীর শিক্ষা কার্যক্রম চালু করেছে এখানে। যদিও প্রতিষ্ঠার সময় কলেজটিতে শুধু উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণীতে ক্লাস নেওয়া হতো। অবশ্য পরে সেটি বন্ধ করে দেয়া হয়। কলেজটিতে বর্তমানে বিজ্ঞান অনুষদ, বাণিজ্য অনুসদ এবং কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত বিভিন্ন বিভাগ চালু রয়েছে।