তানোর উপজেলার ইতিহাস সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক। অনেকে মনে করেন তানোর এসেছে সংস্কৃত তানোব শব্দ থেকে। তানোব শব্দের অর্থ কৃশতা বা সুক্ষ্নতা। বরেন্দ্রর রুক্ষতা বা সুক্ষ্নতা হচ্ছে তানোরের প্রকৃতির এক সময়ের পরিচিত উদাহরণ। এ জন্যই এমনটি ধারণা করা হয়। অবার অন্যারা ধারণা করেন তানর মানে হলো সঙ্গীতের সুর কিংবা সুরেলা ধ্বনি। আর নর মানে হলো, থামা বা থামিয়ে দেওয়া। এক সময় এ অঞ্চলে মানুষ ছিল খুবই আমুদে। নাচ গান ছিল তাদের নিত্যদিনের মানষিক ও শারিরীক অবসর দূর করার প্রধান মাধ্যমে।
কিন্তু কোনো এক সময়ে বেনিয়া শাসকগোষ্ঠী এসে হঠাত করেই তাদের কন্ঠ রুদ্ধ করে দেয়। এরপর স্তব্ধতার ঘনি নেমে আসে সারা এলাকায়। সেখান থেকে এই এলাকার নাম হয় তানোর। ১৮৭৯ সালে তানোর থানা গঠিত হওয়ার মাধ্যমে এই অঞ্চল প্রশাসনিক কাঠামোর আওতায় আসে। তার শতাধিক বছর পর ১৯৮৩ সালে স্বাধীন বাংলাদেশ তানোর থানাকে উপজেলায় উন্নতি করা হয়।দুটি পৌরসভা, সাতটি ইউনিয়ন, ১৭৭ টি মৌজা, ও ১৬১ টি গ্রাম নিয়ে গঠিত।তানোরের বর্তমান আয়তন ২১৫ বর্গ কিলোমিটার।
ভৌগলিক দিক থেকে এই উপজেলার উত্তরে নওগাঁর নিয়ামতপুর ও মান্দাম, দক্ষিণের রাজশাহীরপবা ও গোদাপাড়ী, পূর্বে মোহনপুর এবং পশ্চিমে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর ও নাচোল উপজেলার অবস্থান। তানোরের অর্থনীতি মূলত কৃষি নির্ভর। এখানকার জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রায় ৭৮ শতাংশ কৃষির সাথে সম্পৃক্ত। ৭ শতাংশ ব্যবসার সাথে জড়িত। এছাড়া উপজেলার তিন শতাংশ মানুষ চাকরিজীবী। তানোর উপজেলায় মোট চাষযোগ্য কৃষি জমির পরিমাণ ২১ হাজার ২৯৫ হেক্টর। এসব জমিতে আলো, ধান, টমেটো ইত্যাদি চাষ হয়।
ভৌগোলিক অবস্থান ও ভূ রাজনৈতিক দিক থেকে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা তানোর। বরেন্দ্র ভূমির মাঝে বাঙালি হিন্দু-মুসলমানের সাথে সাঁওতাল, ওরাও, ও মাহালিয়া অধিবাসীদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অপূর্ব মিলনস্থল তানোর উপজেলা। ধর্মীয় সৌহার্দ্য পূর্ণ এ অঞ্চলে বহু মসজিদ ও মন্দির রয়েছে। গোল্লাপাড়া জামে মসজিদ, কামারগাঁও জামে মসজিদ, এবং দালিয়া ও ভাগনা জামে মসজিদ- এখানকার উল্লেখযোগ্য কয়েকটি মসজিদ। এর মধ্যে রয়েছে হিন্দুদের ধর্মীয় উপাসনা নয়। এবং বৌদ্ধদের রয়েছে গির্জা। সংসদ ওমর ফারুক চৌধুরী, চিত্র নায়িকা মাহিয়া মাহি এবং সাবেক মন্ত্র ব্যারিস্টার আমিনুল হক-তানোরের গর্বিত সন্তান। আরো অজানা তথ্য ও স্থাপনার কারণে তানোর একটি পরিচিত উপজেলা।
ভালো লাগলে বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করে দিন এবং আপনার মতামত কমেন্ট বক্সে জানাবেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে পুলিশের চাকরি ছাড়লেন আতিফ আহমেদ সজীব