ভারত থেকে খাদ্য দ্রব্য আমদানি করে বাংলাদেশ এ খবরটা নতুন কিছু নয়। কিছু দিন আগে দেখা গেছে ভারত থেকে পেয়াজ ও কাচা মরিচের মতো পণ্য আসা বন্ধ হয়ে গেলে বাংলাদেশ বেশ সমস্যায় পড়ে। বর্তমানের ঘটনা তার ব্যতিক্রম নয়। খাদ্যদ্রব্যের উপরে বাংলাদেশ এখনো ভারতের উপর নির্ভরশীল। একই অবস্থা অন্যান্য ক্ষেত্রেও।
বিগত ১০ বছরে পরিবহন সেক্টরেও বাংলাদেশ, ভারত নির্ভর হয়ে গেছে। ইন্ডিয়া থেকে টয়োটা, মারুতি সুজুকি এবং হন্ডাইয়ের এর গাড়ি আনা হয়। ২০১৯ সালে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন তথা BRTC ভারত থেকে নতুন ৬০০ বাস ও ৫০০ ট্র্যাক আমদানি করে। শুধু গাড়ি আমদানি নয়, মোটর পার্টস এর জন্যও ভারতের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়। ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে বেনাপোল দিয়ে ৩ লাখ ৫৮ হাজার পিস গাড়ির চেচিস এসেছে। এগুলোর দাম ১৭ হাজার ২৯৫ কোটি ৯৯ লাখ টাকা।
এছাড়া ভারত থেকে মোটর পার্টস আমদানি হয়েছে ৮ কোটি ৪৩ লাখ কেজি। যার মূল্য ২১৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। বস্ত্র ও পোশাক খাতের অপরিহার্য একটি কাঁচামাল তুলা। বিগত বছরগুলোতে আমদানিকৃত তুলার প্রধান উৎস দেশ ছিল ভারত। বাংলাদেশের মোট তুলার চাহিদার 50 ভাগ ভারত থেকে আসে। তবে করোনার আগে মোট চাহিদার মাত্র ২০ ভাগ তুলা ভারত থেকে আমদানি করা হতো। ওই সময়টায় বাংলাদেশ তোলার প্রয়োজনে আফ্রিকার দেশগুলোর দিকে ঝুকে পড়েছিল।
ভারতের বড় অফ ইমিগ্রেশন দপ্তরের হিসাব মতে, দেশটিতে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক পর্যটক বাংলাদেশ থেকেই যায়। এদের বেশিরভাগই উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারত যায়। এ ছাড়া কেনাকাটা এবং ভ্রমণের জন্যও অনেকে ভারতে যায়। প্রতি বছর কলকাতার শপিং মল গুলোতে লক্ষাধিক বাংলাদেশির হাজার কোটি টাকা চলে যাচ্ছে। কেননা, কেনাকাটার জন্য বাংলাদেশের মানুষের প্রথম পছন্দ হচ্ছে কলকাতা।
স্বাস্থ্য খাতের অন্তর্ভুক্ত অনেক ভ্যাকসিন এবং ওষুধ ইন্ডিয়া থেকে আনতে হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন চিকিৎসার সরঞ্জামও ভারত থেকে আমদানি করতে হয়। অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, ভারত থেকে বাংলাদেশের এমন আমদানি নির্ভরতা কাটিয়ে ওঠা কঠিন, তবে আমরা মনে করি কঠিন কিছু নয়। একটা সময় ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রচুর পরিমাণ গরু আসতো। কিন্তু বর্তমানে তেমন গরু আমদানি করার প্রয়োজন পড়ে না।
বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশে প্রচুর গরুর খামার গড়ে উঠেছে। অবস্থা এমন জায়গায় দাঁড়িয়েছে যে, বাংলাদেশের খামারিরা ভারতীয় গরু আমদানি ঠেকানোর দাবি জানাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী ২০২০- ২০২১ অর্থবছরে বাংলাদেশ ভারত থেকে ৮৮৯ কোটি ৩৫ লাখ ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছে। পন্য আমদানি করার সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে পরিবহন খরচ কমে যাওয়া।